প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বর্তমান সরকার





গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের  গৃহীত কর্মপরিকল্পনা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় প্রনীত যুগোপযোগী বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করার কারনে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার হিসাবে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। সমাজে প্রতিবন্ধী শিশুদের অবস্থার যথাযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। যা সরকারের গৃহিত কর্মপরিকল্পনারই ফসল।শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার সরকারের স্বপ্নের বাংলাদেশ। চলো যাই সবাই মিলে, শেখ হাসিনার বিশেষ স্কুলে।প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের অবহেলার পাত্র নয়, তারাও শিক্ষা পেলে সম্পদে পরিণত হয়।------------_--------+-----------+-


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,অর্থমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ  করে বলতে চায়, বাংলাদেশ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কে নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৬০০ টি প্রতিবন্ধী স্কুল একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য পরিদর্শন করেছে এবং ৬৮ স্কুল এ নীতিমালার আলোকে স্বীকৃতি পেয়েছিলো এবং ২০ টি স্কুল স্বীকৃতি প্রদানের জন্য রেজুলেশন করা হয়েছিলো। কিন্তু এই ২০ টি স্কুল রেজুলেশন করার পর থেকে, সেই ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, ২০০৯ সালের যে বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা আছে তা সংশোধন করার পরে বাকি স্কুল গুলো স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং এমপিওভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে।
কিন্তু আজ প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হতে চললো,২০১৮ সালের নীতিমালার খসড়া আকার,আলোর মুখ দেখলো না আজও।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয়, প্রত্যেক সিটি, জেলা-,উপজেলা,ইউনিয়নে ইফতেদায়ী মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ,ডিগ্রী কলেজ চালু রয়েছে। কিন্তু সমাজের অবহেলিত এই প্রতিবন্ধী শিশুদের কে নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিবন্ধী স্কুল গুলো সরকারি বা বেসরকারি কোনো  সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছে না?,তারা কি এই সমাজের নাগরিক না?তাদের কি প্রধান মৌলিক অধিকার শিক্ষা  সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা ঠিক ?
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রীর দুই সন্তানের এক সন্তান তথ্য প্রযুক্তির অভাবনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে,আর এক সন্তান সমাজের অবহেলিত এই প্রতিবন্ধী  জনগোষ্ঠীর সেবাদানে কাজ করে যাচ্ছেন।প্রতিবন্ধীরা আজ আর সমাজের অবহেলার পাত্র না। আমরা স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন হিসেবে যে শিক্ষা দিচ্ছি, তাতেই তারা সমাজের সাধারণ  ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করতে অনেক টাই সক্ষম হয়ে উঠছে। আগে বদ্ধ ঘরে,বন্দি হয়ে বসে ছিল তারা। এখন আর তারা ঘরে বসে থাকে না। এবং সাধারণভাবে আমরা যতটুকু কারিগরি শিক্ষার বাস্তব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারতেছি, তাতেই অনেকের মধ্যে অনেকটা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠার প্রবনতা লক্ষনীয়।এখন আর তারা সমাজের সাধারণ মানুষদের কাছে পাগল বা অপোয়া না।
তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না। দেশের নাগরিক হিসাবে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা গেলে, তারাও সাধারণ মানুষের মতো আত্ম কর্মশীল হয়ে উঠবে এবং পরিবারের  একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করার মত সক্ষমতা তাদেরও আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আমাদের এইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রমে যে পরিমাণ সেবা আমরা তাদেরকে দিতে পারতেছি, সরকার যদি বিগত দিনগুলোর মতে, এতোটুকু তাদের প্রতি আন্তরিকতা বাড়াতো,নীতিমালা সংশোধনের কাজটাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় যদি আন্তরিকতার সহিত একটু গতি বাড়াতো,তাহলে হয়তো বাংলাদেশে যে পরিমাণ প্রতিবন্ধী শিশু আছে অনেকেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতো। এই প্রতিবন্ধী শিশুরা তো আর সাধারন স্বাভাবিক শিশুদের মত নয়, যে তাদেরকে স্বাভাবিকভাবে পড়ালেই তারা পড়তে পারবে বা বুঝতে পারবে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং সেবা, স্পেশাল ক্লাস, থেরাপি, প্রশিক্ষণ বিশেষ প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা কত যে কষ্ট তা তার অভিভাবকরাই জানে।
কিন্তু আজ বড় দুঃখের সাথে বলতে হয় ২০০৯ সালের নীতিমালাটি ২০১৮ সালের খসড়া হয়েই পড়ে রইলো কেবিনেটে। আর এদিকে একাধিক প্রতিবন্ধী স্কুল গুলো ২০০৯ সালের "প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিদর্শন হচ্ছে আর প্রতিবেদন জমা পড়ছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। বিভিন্ন  সিটি,  জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এর একাধিক প্রতিবন্ধী এইসব স্কুল গুলোর ভবিষ্যৎ কি তবে? আমরা কি সেচ্চাশ্রমে সমাজের এই অবহেলিত শিশুদের শিক্ষ ও সেবা দিতে আসাটা ভুল ছিল? সেই কারনেই কি আমাদের এই স্কুল গুলো এতটা অবঙ্গা অবহেলার পাত্র?
আমি মাননীয প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই , আর কত  বছর যাবত এই প্রতিবন্ধী অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদেরই মতো এখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরাও মানবেতর জীবন যাপন করবে?  দয়া করে আপনারাা এই অবহেলিত এই শিক্ষার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে একটু খানি সুদৃষ্টি দেবেন যা আপনারা আরো একটু সুদৃষ্টি দেন, আরও একটু যদি তদারকি করেন,  তাহলে হয়তোবা এই প্রতিবন্ধী শিশুদের মনের আলো ফুটানো সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী