বাগমারায় রাসায়নিক ট্যাবলেট দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন


 

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ০২ নং নরদাশ ইউনিয়নের কোলাবিল মৎস্যচাষ প্রকল্পে রাসায়নিক বড়ি ছিটিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী পক্ষ। 
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়,নরদাশ ইউনিয়নের বিএনপির ইউপি সদস্য ও কোলাবিল মৎস্য  চাষ পকল্পের এনপি নেতা রফিকুল ইসলাম স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রফিক 

এলাকাবাসী ও মৎস্যচাষী অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,প্রায় এক হাজার বিঘা জলাশয়ের রাসায়নিক ট্যাবলেটে মাছ নিধন করা একেবারেই অসম্ভব। থানার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে হয়রানির শিকার করে এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিভিন্নভাবে মারপিট করে তাদের স্বীকারোক্তি নিয়ে মামলা হামলা করায় তার একমাত্র পেশা।
কয়দিন আগেও দিনমজুরের কাজ করলেও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম হঠাৎ করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে আজ ৫ বছরে সে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে প্রায় কোটি কোটি টাকার মালিক  বনে গেছেন।
রফিক ও তার বাহিনী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, 
গত শুক্রবার রাত ৮ ঘটিকার দিকে দিকে বিষ দেওয়া হয়েছে বলে জানতে  গতকাল শনিবার সকাল থেকে মরা মাছ গুলো ভেসে উঠতে থাকে। বিলে জমির মালিক চন্ডিপুর গ্রামের মহসিন আলী, মনোপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিন বলেন, আমাদের জমিতে মাছ চাষের ফলে জমির রকমভেদে আমরা শতাংশ প্রতি টাকা পায় এবং বিনামূল্যে সেচ  সুবিধা পেয়ে থাকে। এভাবে বিষ প্রয়োগ করা হলে মৎস্য চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষক। প্রকল্প সভাপতি হাসান আলী সরদার,  সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম জানান তাদের
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন,  এই বিষ প্রয়োগের ফলে তাদের প্রকল্পের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রকল্পের কেয়ারটেকার(প্রহরী)  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চন্ডিপুর গ্রামের ছেলে উৎপল কুমার এবং একই গ্রামের ছেলে মনজুর রহমান বিড়ি খেতে খেতে এসে বিষ জাতীয় কিছু ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
অপরপক্ষে 
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উৎপল দাবি করেন,এর আগ ও আমাকে তার নিজস্ব বাহিনীর মোটরসাইকেল দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে তার নিজস্ব আস্তানায় মেয়েটি আমাকে মারপিট ও পাশবিক নির্যাতন করে,  আমি তার পুকুরে বিষ প্রয়োগের স্বীকারক্তি নিয়ে মামলা দায়ের করে  পুলিশে সোপর্যে মামলা এখনো চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক ভুক্তভোগী চন্ডিপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুর দাবি করেন, শুক্রবার শুক্রবার দিবাগত রাত ৮ ঘটিকা থেকে রাত্রি এগারো ঘটিকা পর্যন্ত চন্ডিপুর গ্রামের ভুট্টুর বাড়িতে আমাদের গ্রামে একটি মৎস্যজীবী সমিতির ক্যাশিয়ার হিসাবে মিটিং করছিলাম। বিলে বিষ প্রয়োগের কোন প্রশ্নই আসে না।

উক্ত সমিতির মিটিংয়ে চন্ডিপুর গ্রামের আহাদ, মোজাম্মেল, আফসার, রেফাজুল, আমজাদ, রশিদ সহ প্রায় ২০-৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 
তিনি আরও বলেন, 
কোলার বিলের মনোপাড়ার ধারে একটি দীঘী আছে। যা দীর্ঘদীন রফিক ভাই লীজ নিয়ে মৎস্যচাষ করে আসছিলেন। কিন্তু এই বছর আমারা বন্ধুরা মিলে সরকারি বিধি মোতাবেক লীজ নিয়ে মৎস্য করা শুরু করি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা অভিনয়ের আশ্রয় নিয়েছে রফিক মেম্বার।উনার  সম্পর্কে এলাকার সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সম্পর্কে অনেক তথ্য উঠে আসবে বলে মনজুর রহমান দাবি করেন কিন্তু এলাকার মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। 
নরদাশ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০-২২ টি মামলা দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।  তাঁর তৈরি 20 থেকে 30 জন সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। তার কথা না শুনলে তার বাহিনী দ্বারা নির্দিষ্ট আস্তানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।
এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানির শিকার ও অর্থ আদায় তার একমাত্র পেশা।
এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উক্ত সমাবেশে বলেন, আমরা রফিকের অত্যাচার থেকে অতি শীঘ্রই পরিত্রান চাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে.।




Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী