১৫ আগষ্ট এবং বাংলাদেশ



১৫ আগষ্ট বললে বাংলার ইতিহাসে আর সাল উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না।তেজদিপ্ত যে মানুষটির অগাদ মায়া আর প্রেম এই বাংলার মানুষের জন্য, যে কিনা বাংলার মানুষের স্বাধীকার আন্দোলনসহ  সর্বোপরি  জীবন যৌবন কাটিয়েছেন রাজপথ আর জেলখানায়।কিভাবে বাংলার মানুষকে পাকিস্তানি শোষণ থেকে মুক্ত করবেন, সেজন্য ছুটে বেরিয়েছেন বাংলার আনাচে-কানাচে, পথে প্রান্তরে। ভালোবেসে মানুষ কতো নামে ডেকেছে তাকে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ‘মুজিব ভাই’।যার নাম বললে,আর বাংলাদেশের অলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না।
১৯৬৬ সাল থেকে তার নামের আগে তরুণ সমাজ 'সিংহশার্দূল', 'বঙ্গশার্দূল' ইত্যাদি খেতাব জুড়ে দিতে থাকে।  তবে ‘মুজিব ভাই’, ‘শেখের বেটা’, ‘বাংলার মুজিব’, ‘শেখ মুজিব’, 'বঙ্গশার্দূল', 'সিংহশার্দূল'-এ সবকিছু ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার বন্ধু। বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু।  আর সব নাম ছাপিয়ে তিনিও হয়ে ওঠেন ‘বঙ্গবন্ধু’।।মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, একনায়কতন্ত্রের মহানায়ক হিসাবে জাতীর সামনে উপস্থাপন করতে একদল মৌলবাদীর জন্ম হয়েছিলো বাংলার আনাচে কানাচে।জাতীয় ঐক্যের যে ডাক সেদিন বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতাকে একসাথে নিয়ে তাদের মাঝে খাস জমি বন্টন করে দিয়ে খাদ্যের অভাব চুকাতে চেয়েই সেদিন বঙ্গবন্ধু অপরাধী হয়পছিলেন।সকল আমলাদের একসাথে নিয়ে সবাই সম্মিলিত হয়ে এককাতারে দাঁড় করানোর যে চিন্তা সেদিন করেছিলেন,  তা কি তার ভুল ছিলো? ৭৫ এর পরবর্তী প্রজন্মের এক হতভাগা বাংঙ্গালী হিসাবে আমার খুব ইচ্ছে করে জানতে? ।জাতির চরমতম দুর্ভাগ্য, সেদিন বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল প্রতিষ্টার কুফল হিসাবেই, আজও খুদ আওয়ামীলীগের অনেক নেতারা ব্যাখ্যা করেন।বঙ্গবন্ধুর তেজোদীপ্ত নেতৃত্ব এবং পাহাড়সম দৃঢ়তার জন্য বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগন্য। বঙ্গবন্ধুর বিরামহীন ও নিবিষ্ট পরিশ্রমে গড়ে তোলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের অনেক সময় বলতে শোনা যায়, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ইতিহাসে কাঁটা ধরার কোন সুযোগ নেই কেবলমাত্র ব্যতিক্রম বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা। বাকশাল প্রতিষ্ঠাকে তারা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিগণিত করে থাকেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঘটনার ক্রীড়নক হিসেবেও বাকশালকে দায়ী করা হয়। অথচ আমার মনে হয় তাঁরা বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনের উদ্দশ্যে ও বাস্তবায়ন সাপেক্ষে ফলাফলের কথা ক্ষুণাক্ষরে চিন্তা না করেই অবচেতন মনে বিবৃতি দিয়ে থাকেন।খুব কষ্ট লাগে,যখন আওয়ামী লীগের  অনেক নেতাই,যে বাকশাল প্রতিষ্টাই জাতীর পিতাকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা আজও জানেন না অনেকে।জানেনা, সেদিন ভাঙ্গাচোরা এই দেশটার সব কিছু ঠিকঠাক করতে ঘরে-বাইরের শত্রুরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতাকে সময় দেয়নি। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির আগে যখন জাতীয় ঐক্যের কথা ওঠে তখন একদিকে ক্ষোভ আর অন্যদিকে বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন জাগে, জাতীয় ঐক্যের ওই সুযোগ তখনকার জটিল পরিস্থিতিতে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে নিতে পারলাম না কেন? ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায়, মুষ্টিমেয় কতিপয় পরাজিতরা ছাড়া তখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই তো কথাবার্তায় ছিল সবাই। তবুও জাতির পিতাকে জীবন দিতে হলো কেন? কেন তেমন দৃঢ়ভাবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দাঁড়াতে পারল না দেশবাসী? জীবনের প্রটেকশন দিতে পারা গেল না কেন? কেন এখন দেয়া হচ্ছে এই ক্ষণজন্মা মহামানবকে একদল করায় ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে অপবাদ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। ‘ক্ষমা তোমার চাইতে হবে/নামিয়ে মাথা হে বিধাতা..।’ বাংলার গণদেবতা দেশপ্রেম তথা ‘হৃদয় তন্ত্রে একের মন্ত্রে¿’ কবে এই সব বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমা চাইবে, এটাই এখন দেখার বিষয়। যে দিন তা করবে, সে দিন হবে বাঙালি জাতির নব অভিযাত্রার পথে প্রথম পদক্ষেপ। অনাগত ওই দিনটির জন্য অপেক্ষা করা ভিন্ন জাতির কোনো বিকল্প নেই।

Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী