বিয়ের আগে আমার দুই সন্তান ছিল : বিদিশা




 নিজস্ব প্রতিবেদক 
গেল ১৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ মারা গেছেন। দেড় দশক আগে বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ে ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত ঘটনা। এরশাদ-বিদিশার একমাত্র ছেলে শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)।
বিয়ের পর বিদিশার জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘটনায় এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ রুষ্ট হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর এরিককে নিয়ে এরশাদ ও বিদিশার যুদ্ধ আদালতে গড়িয়েছিল। পরে আদালতের আদেশে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। দুজনের মধ্যে পরিচয়, প্রণয়, বিচ্ছেদ ইত্যাদি নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে কথা বলেছেন বিদিশা।
বিদিশা বলেন, আসলে ওনার সাথে প্রেম থেকেই শুরু হয়েছে সব কিছু। পজেটিভ দিয়ে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে নেগেটিভের দিকে গেছে। আবার নেগেটিভ থেকেও শেষের দিকে পজিটিভ হয়েছে সেটা হয়তোবা জাতি জনগণ জানো না। হা শুরুটা তো আমি ওনার প্রেমে পড়েছি, আমাকে ওইভাবে কনভেন্স করতে পেরেছিলেন। তার আগে জানেন আমি বিবাহিত ছিলাম। ব্রিটিশ এক ভদ্রলোকের ওয়াইফ ছিলাম। সেখানে আমার দুই সন্তান আছে।
আমি ইংল্যান্ড থেকে তখন এসেছিলাম। যাই হোক এরশাদ সাহেবের অনেক গুণ আছে, কোয়ালিটি আছে। উনি যেভাবে মানুষকে কনভিন্স করতে পারতেন সচরাচর অন্য সাধারণ মানুষ সেটা পারে না। আমি অন্তত দেখিনি। প্রেমে পড়লাম তারপর উনি বিয়ে করলেন। আসলে প্রেমের সময়টা বেশি দিন ছিল না উনি ডিসিশন নিয়েই নিয়েছিলেন যে উনি বিয়ে করবেন। বিয়ে হলো ভালোভাবে সংসারও ছিলো সবকিছু এরিককে ঘিরে আমাদের।
কারণ আপনারা জানেন এরিক সাধারণ আর দশটা বাচ্চার মতো ছিলো না। ছোটবেলা থেকেই ওর হাত পা একটু বাঁকা ছিলো, মুখ থেকে লালা পড়তো, চার বছর ধরে হাঁটতে পারত না। অপারেশন করার পরে হাঁটতে শুরু করল ও। এরিক শারীরিকভাবে একটু প্রতিবন্ধী। সুতরাং আমাদের পুরো কন্সেন্ট্রেশন ছিলো সন্তানের প্রতি। সন্তানের সামান্য একটা উহ শব্দআমরা শুনতে পারতাম না।
তারপরে রাজনীতিতে আমাকে উনিই এনেছেন। এরশাদ সাহেব নিজেই আমাকে রংপুরবাসী, উত্তরবঙ্গ, দিনাজপুর, রাজশাহী সব জায়গায় আমাকে ইন্ট্রোডিউস করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছেন। সিলেটে নিয়ে গেছেন, চট্টগ্রামে নিয়ে গেছেন। আমি রাজনীতি করার জন্য কখনো আসিনি এবং এদেশের রাজনীতির প্রতি আমার কোনো ধারণা ছিলো না এবং আমি রাজনীতি বুঝতাম না।
উনি আমাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে এই যে কানেকশনটা সেটা করে দিয়েছেন। এটা করতে গিয়ে অটোমেটিকলি আমাকে পার্টিতে পদ দেয়া হয়। আমাকে মহিলা পার্টির সভাপতি করা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা করা হয়। যেহেতু আমার বাহিরের সাথে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এবং আমি ছোটবেলা থেকে লন্ডনে ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়া করেছি, টুকটাক ইংরেজি জানি ভালো। মানুষ জনের সাথে উঠা বসা করতে পারতাম।
বাইরের কোনো দেশে গেলে আমি ভয় পেতাম না। সে কারণে আমাকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে উনি নিজেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বাসায় আসতেন, সবার সঙ্গে আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল এটা ওনার কারণেই হয়েছে। আমার জন্য কিছুই হয়নি।
বিদিশা আরও বলেন. পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার করেছে এবং আমি পার্টির ফরেন সাইটগুলো দেখাশোনা করতাম। বহিবিশ্বে জাতীয় পার্টিকে ইন্ট্রোডিউস করা, রিপ্রেজেন্ট করা, এগুলো আমি খুব ভালোভাবে করেছি। আমি চায়নাতে করেছি, ইন্ডিয়াতে করেছি, বিভিন্ন দেশে যখন যেখানে গিয়েছি। ওনার সঙ্গে সৌদি আরব গিয়েছি হজ্ব করেছি। এই ভাবেই আমার রাজনীতিতে উত্থান।
তিনি বলেন, বিপর্যয় হয়েছে কি তখনকার যারা সরকার ছিলেন তাদের সঙ্গে আমাদের পার্টির একটা গ্রুপ খুব শক্তিশালী ছিলো। তখন ওই পন্থীটা (পার্টির অনেক সিনিয়র নেতা ছিল এবং অনেকে মারাও গিয়েছেন) আমি এখন আর নাম না বলি, বারবার এগুলো বলতে আমার ভালো লাগে না। আমার একটি বই আছে, বইতেও আমি স্পষ্ট করে লিখেছি। যারা মারা গেছেন আল্লাহ বেহেশত নসিব করুক। সৃষ্টিকর্তাই হলেন প্রধান বিচারক।
সব কিছু উনি দেখছেন উনি করছেন। আমি ওখান থেকে কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছি। তারা কিন্তু সাকসেসফুল হয়নি। হ্যাঁ তারা আমার সংসার ভেঙেছে। আমার সংসার করা হয় নি উনার সঙ্গে। আমার সন্তানের সঙ্গে আজকে এত বছর ধরে একটা দূরত্ব হয়ে আছি। আমার সন্তানকে আমি এত বছর ধরে বাবার কাছে রেখেছি সে তার বাবার কাছেই ছিলো। এই যে টানাপোড়েন ঝগড়াঝাটি এগুলোর একটা মীমাংসা শেষে হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী