নির্ঘুম অত্যাচারে আজি
আজও ঘুমটা হলো না, বিছানা ছেড়ে দিয়ে চায়ের জন্য সোজা রান্নাঘরে। চা বানিয়ে কাপটা হাতে নিয়ে বেলকুনিটাতে, আমার সেই দোলনা চেয়ার টায়। তবে দোল খেতে নই, চায়ের কাপটায় চুমুক দিতে দিতে তাকালাম সেরিকালচার এর ভিতরের অদ্ভুত নীরবতার দিকে। কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম ঝিঝিপোকার ডাক আর রাতে শেষ প্রান্তে শিয়ালের হুক্কি হুয়া আর পাখির কিছিমিছির কেচকেচানে আর ভালো লাগে না।
বলে রাখা ভালো, আমি এখন যে বাসাটাই ভাড়া উঠেছি, বাসাটি সেরিকালচার এর ভিতরের ফাঁকা জায়গা টির ঠিক দক্ষিণ পাশে।আর আমার আপার্টমেন্ট টা বাসাটির ঠিক উত্তর পাশের। আমার বেলকুনিটা ঠিক সেরিক্যাচার এর ভিতরের সমস্ত ফাঁকা জায়গার সাধ গ্রহনের যেন মধ্যমনি। তাই পরিবার হীন আমার নিংশঙ্গ জীবনকে কাটানোর মত একটা অংশ বনে গেছে বাসাটি। তিন রুম, দুই টয়লেট,রান্নারুম, ড্রাইনিং সব মিলে মোটামুটি অনেক বড়ই বাসাটি। কিন্তু বাস করি আমি একা৷ কেউ নেই যেন কোথাও। কি নেই আমার? কেন আমি একা? আমার জীবনের সব থেকে ভুল দিক কোনগুলো? জীবনে যাদের নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসা দিলাম,আজ অবেলায় কেনই বা তাদের রাখতে পারলাম না পাশে? হাজারে প্রশ্নের বেড়াজালে নিজেকে বার বার বিদ্ধ করে উত্তর খোজাটাই যেন আমার একমাত্র কাজ। কিন্তু পাইনা চোখের কোনায় জলের ফোটা ছাড়া আর অন্য কিছু।
এই বারের ইদের কয়দিন আগে গ্রাম্য একটি সমিতির মিটিং করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে গেছিলাম। মিটিং একটু করে বাড়িতে গেলাম।মা খাবার নিয়ে বস।অসুস্থ শরীর তারপরও বসে আছে, আমি আসার কথা শুনে, বাবাও জেগে আছে।ভাই ভাবি ভাতিজি ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ খাওয়ার মাঝে যখন তুহিন বলে উঠলো, আমাদআমাদের এখনই চলে যেতে হবে শহরে। ১১.০০ রাত।কোন বাবা মাই ছাড়তে চাইবে না,এতো শত্রুর মাঝে এতো রাত্রে যেডে দিতে। প্রয়োজন বাঁধা মানে না, তাই সব মেনে বাসা থেকে বের হলাম।মাকে বল্লাম, ভালে থেকো মা।ঠিক মত ওষুধ খেও।তুই ও ভালো থাকিস। পৌঁছে ফোন দিস।আমার আবার ভালো থাকা মা, ফাতিহা কে ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগে না, সুখ আমার জীবনে মনে হয় নেই মা। মা বল্লো,ল যা তেকেও আল্লাহ সুখি করবে।তুইও একদিন সুখে থাকবি।আর কোন ভাষা মুখ থেকে বেরোলো না আমার।এ কথার উজব বুঝার সাধ্য আমার নেই। তুহিন বললো, হ্যা আ্যান্টি দোয়া করেন। চোখের কোনে জমানো অশ্রু মুঝতে মুঝতে রাস্তার দিকে রওনা হলাম। তার পর অফিস থেকে বিদায় নিয়ে চিরচেনা রাজশাহীর পথ,মোটরসাইকেল এ উঠে বসলাম। আর কাউকে কিছুই বলার নেই। গ্রামের সবাই আমার জন্য আজ আর তেমন বসে নেই আমাকে বিদায় জানানোর জন্য। অথচ কয়দিন আগেই মোটরসাইকেল এ চড়তে বললে আমার বিদায়ে যেত প্রায় ঘন্টা।
নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতেই মোটরসাইকেলের পিছনে নীরব কান্না থামছে না, আর কত কষ্ট দিবো এই মানুষগুলোকে। তাদেরকে কি কোনদিন আনন্দ ঘন মুখে মায়াবী বদনে হাসি মাখা মুখে দেখার সাধ্য কি আমার আদো হবে? আমি কি পারবে মা বাবা ভাই বোন সবাইকে বলতে, দেখিস একদিন আমিও ্্্্্।
রাত কাটলেই আজ সবাই দেশিও অস্ত্রপাতি,ছুরি, হাসুয়া,চাপ্পর যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে এদিকে ওদিক ছুটাছুটি করবো। কোথায় রক্তের বন্যা বয়ে দেওয়া যাবে, তার জন্য জায়গা ঠিক করে সবাই মিলে একসাথে পশুটাকে পাকড়াও করে তার গলায় চালাবে ধারালো আস্ত্র।গর্ধান মাঠিতে লাটাবে একের পর এক পশুর। এ যে মুসলিম উম্মার এক চরম ত্যাগের মহিমা। আল্লাহ পাক বলেন, তোমরা কত টাকা দামের পশু আমার রাস্তায় কোরবানী করলে, তা আমি কখনও দেখি না। আমি দেখি তোমাদের তাকওয়া। যা তোমরা অন্তর থেকে আমার জন্য উৎসর্গ করো,আর আমি তা কবুল করি। তোমাদের গরুর রক্ত মাংশ কোনটাই আমার কাছে পৌঁছায় না। আমার কাছে পৌঁছায় তোমরা কেমন করে, কিসের টাকায় আমার পথে কোরবানী করলে, সেই তোমাদের অন্তরের তাকওয়া।অন্য কিছুই নয়।
যাই হোক, কথা আর অন্য দিকে না বাড়িয়ে নিজের কথা বলি। জন্ম আমার একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্মে। ছোট বেলাই কোরবানির জন্য দেখতাম গ্রামের অনেকেই কোরবানি দিতে পারতেন না।তখন গ্রামটা আমার অনেক গরীব ছিলো। যারা কোরবানী দিতে পারতোনা তারা, যারা কোরবানী আদায়ের আল্লাহ পাক তৈফিক দাম করতেন, সেই সব কোরবানীর পশু জবাইয়ের জায়গায় গিয়ে নিজের একটি সাদকা ভাগের কথা বলতেন, গুনে গুনে খাতায় লিখতে হতো, কত জন কোরাবানী দিতে পারে নি আর কত গুলো বাহির গ্রামের মিসকিন বলে গেলেন তাদের একটি সাদকা ভাগের জন্য । আর এটা লিখে সংখ্যার উপর সমান ভাগ করার দায়িত্বটা বেশী আমার ঘাড়েই পড়তো।আমার নাকি সব কিছু মনে থাকে। তাই ভাগ বাটোয়ার কমতির কোন অভিযোগ পাওয়া যেত না।
আহা, কি সুন্দর ছিলো সে দিনগুলো। সবাই মিলে একসাথে ঈদের নামাজ পড়ে, তারপর যেতাম বংশীয় কবরস্থানে, যেখানে শাহিত আছে দাদা দাদী বড়বাপ ছোটবাপ সহ বংশীয় সকল পূর্বপুরুষেরা। এরপর মজামাস্তি করে কোরবানীর পশু জবাই থেকে শুরু করে সকল কাজ করতাম আর সবাই মিলে কত মজা করতাম, কিন্তু আজ?
খুঁজি সেই দিনগুলোকে।স্মৃতির পাতা হাতড়াতে হাতড়াতে বাঁধে হাতে চোরাবালি,, মরিচীকা, কোথাও আলো নেই, অন্ধকার চারিদিকে । কোথায় হারিয়ে গেল? আজ কেন? কোন ভুলে এখনও পড়ে আছি, এ বাসায় সন্তানহারা এক পিতা হয়ে, আর সংসার বৈরাগী এক পথের যাত্রী হয়ে। নিরবে একাকি। কি এমন পাপ করেছি আমি, যার প্রায়শ্চিত্ত করছি এইভাবে। কেন আজ দুটি ঈদের একটিও কাটাতে পারলাম না তার সাথে,যাকে ছাড়া সারা পৃথিবী অন্ধকার আমার।? কেন ওরা আমার কলিজাটাকে এভাবে আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে আমার সারা পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে দিলো? কেন আমি পারলাম না আমার আত্নাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঈদের সেই অতৃপ্ত অনভুতি টুকু। কেন ওর সারাক্ষনের আদর পাওয়ার অধিকার ওরা খর্ব করে নিলো। আমাকে কেন সকলের কাছ থেকে আলাদা এক মানব জগতে ফেলে গিয়ে ওরা সুখের নীশানা খুজে নিলো,। কেন আমি আজ দুচোখে মরুময় বালুচিকা দেখি। আজ ঈদের এই রাতে একটি বারের জন্য কথাও বলতে দিলে না সখি, বলো তবে কেমনে বাঁচি আমি।
এমন নিঠুর বেদনাতিক্ত ঈদ যেন জীবনে কখনও না আসে, এমন বেদনার অশ্রু যেন আর কোন বাবাকে স্পর্শ করতে না পারে, এমন অঝরে অশ্রু যেন পৃথিবীর কোন বাবার চোখে আর কখনও না নামে।।
সত্যি বলছি সখি, বাঁচতে নাহি পারবো আমি এই ত্রিভূবনে, তাকে ছাড়া, যে আমার প্রাণ ভ্রমরা। যার কাছে বন্ধি আমার আত্না।
দোয়া করি সুখে থাকো। পিতা মাতা বোন ভগ্নিপতি ও আমার ফাতিহা সোনার মিষ্টি হাসির মিষ্টি শুগন্ধ এনে দিক তোমাদের ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত কোরবানি ঈদের পরিপূর্নতা। তোমাদের জীবনে বার বার ফিরে আসুক এমনই ঈদের আনন্দ। যা তোমাদের জীবনের প্রতিটা দিনকে ঈদের মতই আনন্দ ময় করে তুলুক।
আমি অভাগা সংসার বৈরাগী হয়ে এবারের ঈদের সকল আনন্দ আবার নয়ন মনি চান্দের কনা,মুখে মায়া অপরুপ ঝলকানি যার মুখে, প্রানের শান্তি খুঁজি আমি যার মুখপানে, যাকে পেয়ে বাঁচার স্বপ্ন হয়েছিলো দৃঢ়তার সাথে,সাথেই আজ আর ওটুকুও নেই? ভাবনার অন্তরালে ঈদ নামক কোন শব্দই আজ মনে পড়ে না। মনে পড়ে শুধু একটি কথায়,এতো কষ্ঠ সইতে পারে কি কেউ কখনও।
তবুও থাকবো বেঁচে কষ্ট বুকে, পৃথিবীর এক কোনে। চেষ্টা করবো নিজেকে জ্বালাতে। ভালো থেকো কিন্তু, আর ভালো থাকার জন্যই তো ত্যাগ করোছো এই আমায়।তাই ভালো থাকার দোয়াটা রা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই না।
বলে রাখা ভালো, আমি এখন যে বাসাটাই ভাড়া উঠেছি, বাসাটি সেরিকালচার এর ভিতরের ফাঁকা জায়গা টির ঠিক দক্ষিণ পাশে।আর আমার আপার্টমেন্ট টা বাসাটির ঠিক উত্তর পাশের। আমার বেলকুনিটা ঠিক সেরিক্যাচার এর ভিতরের সমস্ত ফাঁকা জায়গার সাধ গ্রহনের যেন মধ্যমনি। তাই পরিবার হীন আমার নিংশঙ্গ জীবনকে কাটানোর মত একটা অংশ বনে গেছে বাসাটি। তিন রুম, দুই টয়লেট,রান্নারুম, ড্রাইনিং সব মিলে মোটামুটি অনেক বড়ই বাসাটি। কিন্তু বাস করি আমি একা৷ কেউ নেই যেন কোথাও। কি নেই আমার? কেন আমি একা? আমার জীবনের সব থেকে ভুল দিক কোনগুলো? জীবনে যাদের নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসা দিলাম,আজ অবেলায় কেনই বা তাদের রাখতে পারলাম না পাশে? হাজারে প্রশ্নের বেড়াজালে নিজেকে বার বার বিদ্ধ করে উত্তর খোজাটাই যেন আমার একমাত্র কাজ। কিন্তু পাইনা চোখের কোনায় জলের ফোটা ছাড়া আর অন্য কিছু।
এই বারের ইদের কয়দিন আগে গ্রাম্য একটি সমিতির মিটিং করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে গেছিলাম। মিটিং একটু করে বাড়িতে গেলাম।মা খাবার নিয়ে বস।অসুস্থ শরীর তারপরও বসে আছে, আমি আসার কথা শুনে, বাবাও জেগে আছে।ভাই ভাবি ভাতিজি ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ খাওয়ার মাঝে যখন তুহিন বলে উঠলো, আমাদআমাদের এখনই চলে যেতে হবে শহরে। ১১.০০ রাত।কোন বাবা মাই ছাড়তে চাইবে না,এতো শত্রুর মাঝে এতো রাত্রে যেডে দিতে। প্রয়োজন বাঁধা মানে না, তাই সব মেনে বাসা থেকে বের হলাম।মাকে বল্লাম, ভালে থেকো মা।ঠিক মত ওষুধ খেও।তুই ও ভালো থাকিস। পৌঁছে ফোন দিস।আমার আবার ভালো থাকা মা, ফাতিহা কে ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগে না, সুখ আমার জীবনে মনে হয় নেই মা। মা বল্লো,ল যা তেকেও আল্লাহ সুখি করবে।তুইও একদিন সুখে থাকবি।আর কোন ভাষা মুখ থেকে বেরোলো না আমার।এ কথার উজব বুঝার সাধ্য আমার নেই। তুহিন বললো, হ্যা আ্যান্টি দোয়া করেন। চোখের কোনে জমানো অশ্রু মুঝতে মুঝতে রাস্তার দিকে রওনা হলাম। তার পর অফিস থেকে বিদায় নিয়ে চিরচেনা রাজশাহীর পথ,মোটরসাইকেল এ উঠে বসলাম। আর কাউকে কিছুই বলার নেই। গ্রামের সবাই আমার জন্য আজ আর তেমন বসে নেই আমাকে বিদায় জানানোর জন্য। অথচ কয়দিন আগেই মোটরসাইকেল এ চড়তে বললে আমার বিদায়ে যেত প্রায় ঘন্টা।
নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতেই মোটরসাইকেলের পিছনে নীরব কান্না থামছে না, আর কত কষ্ট দিবো এই মানুষগুলোকে। তাদেরকে কি কোনদিন আনন্দ ঘন মুখে মায়াবী বদনে হাসি মাখা মুখে দেখার সাধ্য কি আমার আদো হবে? আমি কি পারবে মা বাবা ভাই বোন সবাইকে বলতে, দেখিস একদিন আমিও ্্্্্।
যাই হোক, কথা আর অন্য দিকে না বাড়িয়ে নিজের কথা বলি। জন্ম আমার একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্মে। ছোট বেলাই কোরবানির জন্য দেখতাম গ্রামের অনেকেই কোরবানি দিতে পারতেন না।তখন গ্রামটা আমার অনেক গরীব ছিলো। যারা কোরবানী দিতে পারতোনা তারা, যারা কোরবানী আদায়ের আল্লাহ পাক তৈফিক দাম করতেন, সেই সব কোরবানীর পশু জবাইয়ের জায়গায় গিয়ে নিজের একটি সাদকা ভাগের কথা বলতেন, গুনে গুনে খাতায় লিখতে হতো, কত জন কোরাবানী দিতে পারে নি আর কত গুলো বাহির গ্রামের মিসকিন বলে গেলেন তাদের একটি সাদকা ভাগের জন্য । আর এটা লিখে সংখ্যার উপর সমান ভাগ করার দায়িত্বটা বেশী আমার ঘাড়েই পড়তো।আমার নাকি সব কিছু মনে থাকে। তাই ভাগ বাটোয়ার কমতির কোন অভিযোগ পাওয়া যেত না।
আহা, কি সুন্দর ছিলো সে দিনগুলো। সবাই মিলে একসাথে ঈদের নামাজ পড়ে, তারপর যেতাম বংশীয় কবরস্থানে, যেখানে শাহিত আছে দাদা দাদী বড়বাপ ছোটবাপ সহ বংশীয় সকল পূর্বপুরুষেরা। এরপর মজামাস্তি করে কোরবানীর পশু জবাই থেকে শুরু করে সকল কাজ করতাম আর সবাই মিলে কত মজা করতাম, কিন্তু আজ?
খুঁজি সেই দিনগুলোকে।স্মৃতির পাতা হাতড়াতে হাতড়াতে বাঁধে হাতে চোরাবালি,, মরিচীকা, কোথাও আলো নেই, অন্ধকার চারিদিকে । কোথায় হারিয়ে গেল? আজ কেন? কোন ভুলে এখনও পড়ে আছি, এ বাসায় সন্তানহারা এক পিতা হয়ে, আর সংসার বৈরাগী এক পথের যাত্রী হয়ে। নিরবে একাকি। কি এমন পাপ করেছি আমি, যার প্রায়শ্চিত্ত করছি এইভাবে। কেন আজ দুটি ঈদের একটিও কাটাতে পারলাম না তার সাথে,যাকে ছাড়া সারা পৃথিবী অন্ধকার আমার।? কেন ওরা আমার কলিজাটাকে এভাবে আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে আমার সারা পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে দিলো? কেন আমি পারলাম না আমার আত্নাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঈদের সেই অতৃপ্ত অনভুতি টুকু। কেন ওর সারাক্ষনের আদর পাওয়ার অধিকার ওরা খর্ব করে নিলো। আমাকে কেন সকলের কাছ থেকে আলাদা এক মানব জগতে ফেলে গিয়ে ওরা সুখের নীশানা খুজে নিলো,। কেন আমি আজ দুচোখে মরুময় বালুচিকা দেখি। আজ ঈদের এই রাতে একটি বারের জন্য কথাও বলতে দিলে না সখি, বলো তবে কেমনে বাঁচি আমি।
এমন নিঠুর বেদনাতিক্ত ঈদ যেন জীবনে কখনও না আসে, এমন বেদনার অশ্রু যেন আর কোন বাবাকে স্পর্শ করতে না পারে, এমন অঝরে অশ্রু যেন পৃথিবীর কোন বাবার চোখে আর কখনও না নামে।।
সত্যি বলছি সখি, বাঁচতে নাহি পারবো আমি এই ত্রিভূবনে, তাকে ছাড়া, যে আমার প্রাণ ভ্রমরা। যার কাছে বন্ধি আমার আত্না।
দোয়া করি সুখে থাকো। পিতা মাতা বোন ভগ্নিপতি ও আমার ফাতিহা সোনার মিষ্টি হাসির মিষ্টি শুগন্ধ এনে দিক তোমাদের ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত কোরবানি ঈদের পরিপূর্নতা। তোমাদের জীবনে বার বার ফিরে আসুক এমনই ঈদের আনন্দ। যা তোমাদের জীবনের প্রতিটা দিনকে ঈদের মতই আনন্দ ময় করে তুলুক।
আমি অভাগা সংসার বৈরাগী হয়ে এবারের ঈদের সকল আনন্দ আবার নয়ন মনি চান্দের কনা,মুখে মায়া অপরুপ ঝলকানি যার মুখে, প্রানের শান্তি খুঁজি আমি যার মুখপানে, যাকে পেয়ে বাঁচার স্বপ্ন হয়েছিলো দৃঢ়তার সাথে,সাথেই আজ আর ওটুকুও নেই? ভাবনার অন্তরালে ঈদ নামক কোন শব্দই আজ মনে পড়ে না। মনে পড়ে শুধু একটি কথায়,এতো কষ্ঠ সইতে পারে কি কেউ কখনও।
তবুও থাকবো বেঁচে কষ্ট বুকে, পৃথিবীর এক কোনে। চেষ্টা করবো নিজেকে জ্বালাতে। ভালো থেকো কিন্তু, আর ভালো থাকার জন্যই তো ত্যাগ করোছো এই আমায়।তাই ভালো থাকার দোয়াটা রা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই না।
Comments
Post a Comment