দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনে
দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনেরএকটি ছোট্ট ফিরিস্তুি আজকের যুবসমাজের কাছে তুলে ধরতে চায়।যারা এ জাতীর নতুন প্রজন্ম। আগামী দিনের কান্ডারী, যে ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে এ জাতীর পিতা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানে অনীহা করে, নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য যারা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের কথা নিয়ে মতভেদ থাকে, এদেশে বাসের অধিকার তাদের কি করে হয়, জানতে ইচ্ছে করে, বিরোধিতা মানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথেও।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।
কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে বঙ্গবন্ধুর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ১৪টি বছর কারাগারে ছিলেন। তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান। এরপর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন। একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। ওই দফায় তিনি ২৭ দিন কারাভোগ করেন। একই বছরের ১৯৪৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয় বলে তোফায়েল আহমেদ জানান। তিনি বলেন, সে সময়ে বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারা ভোগ করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়। এরপর ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন। এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।
(সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
৭ মার্চ ২০১৭ )
কাদের জন্য কারাভোগ কাদের জন্য এই ত্যাগ ???
তিনি আমাদের জন্য উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ।
বিনিময়ে এই একদল বিশ্বাস ঘাতক বাঙ্গালী উনাকে
উপহার দিয়েছে ১৮টি বুলেট।
পরিবারের উপস্থিত সকল সদস্যকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও ভাল মানুষের মোড়কে
থাকা বর্নচোরা বিশ্বাস ঘাতক বাঙালিদের নয়।
তাইতো বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী উইলি ব্র্যান্ড বলেছিলেন
মুজিব হত্যার পরে আর বাঙালিদের বিশ্বাস করা যায়না।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে বরং যা সঠিক যা সত্য তাই বলে বলতে হবে | আর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম মানেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন | তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন—‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানব জাতি নিয়েই আমি ভাবি | একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায় | এই নিরন্ত সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ সুতরাং সুখী সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে গভীর গবেষণা, নিবিড় অধ্যয়ন ও তা থেকে অর্জিত শিক্ষা রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচন ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে, উল্লেখ করে যেকোনো কাজে নিজের কাছে যেকোনো সময় যে কাউকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এই তো বঙ্গবন্ধুর রক্ত। যে রক্তের প্রতিটি কথা ও কাজের সাথে মিশে আছে এ জাতীর স্বপ্ন ও দুঃখগাতা,আত্নীকতা।

Comments
Post a Comment