কিভাবে সেদিন পাওয়া গেল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াকে

আমরা জানি ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। কালের বিবর্তনে ইতিহাস লিখে রাখে সত্যটা।আর যে সত্যের প্রমান মিলে ইতিহাসের পাতায়। আমরা জাতীর পিতাকে দেখেছি একদল সেনাবাহিনীর দুষ্কৃতিকারী অফিসারের নির্মমমতার বলি হতে। তার পর দেখিছিলাম তৎকালীন সর্বাধিক ক্ষমতাভোগকার এবং সবচেয়ে বেশী ফায়দা লুটা অফিসারদের মধে তিনিই অন্যতম। তাকেও সেই একি কায়দায় সেনাবাহিনীর অফিসারদের হাতে নৃশংস ভাবে প্রাণ দিতে দেখেছিসে-ই  চট্টগ্রামের  সার্কিট হাউসে। ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে ভোররাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাটা মেজর জিয়াউর রহমান নিহত হন একদল সেনা সদস্যের হাতে। ঘটনার আগের দিন তিনি চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে ২৯ শে মে রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউজে ঘুমিয়ে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
ঘটনার পর ৩০ শে মে সকালে সার্কিট হাউজে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর রেজাউল করিম রেজা। তিনি বলেছেন, তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সার্কিট হাউজে পাঠানো হয়েছিল সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেবার জন্য।
তার ভাষ্যে, কর্নেল মতিউর রহমান আমাকে ডাকেন। ডেকে বলেন যে জিয়াউর রহমান ডেড বডিটা কিছু ট্রুপস সাথে নিয়ে সার্কিট হাউজ থেকে নিয়ে পাহাড়ের ভেতরে কোথাও কবর দেবার জন্য। আমি তখন তাকে বললাম যে আমাকে অন্য কাজ দেন। তারপর উনি মেজর শওকত আলীকে ডেকে ঐ দায়িত্ব দিলেন। তখন আমাকে ডেকে বললেন যে তুমি এদের সাথে থাক এবং সাথে যাও। গিয়ে সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে আসবে। সার্কিট হাউজে যাবার পর আমি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠি। উঠে দেখি সিঁড়ি বারান্দায় একটা ডেড বডি কম্বল দিয়ে ঢাকা আছে। পাশে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কার ডেড বডি? সে বলল, এটা রাষ্ট্রপতির। আমি বললাম কম্বলটা খোল। সেটা খোলার পর দেখলাম তাঁর মাথাটা।’’
কাছাকাছি দূরত্বেই পড়ে ছিল কর্নেল এহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজের মৃতদেহ। সেখান থেকে চলে যান মেজর রেজাউল করিম রেজা। অন্যদিকে মেজর শওকত আলী তার দল নিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ কবর দিতে নিয়ে যায়।
নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১লা জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ। তাঁর সাথে ছিল কয়েকজন সিপাহী, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার। তারা কাপ্তাই রাস্তার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন। তারা একটি অনুমানের উপর ভিত্তি করে নতুন কবরের সন্ধান করছিলেন। তখন একজন গ্রামবাসী এসে তাদের জিজ্ঞেস করেন যে তারা কী খোঁজ করছেন?
ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ এস গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সেনাবাহিনীর সৈন্যরা সেখানে কোন ব্যক্তিকে সম্প্রতি দাফন করেছে কি না?
তখন সে গ্রামবাসী একটি ছোট পাহাড় দেখিয়ে জানালেন কয়েকদিন আগে সৈন্যরা সেখানে একজনকে কবর দিয়েছে। তবে সে গ্রামবাসী জানতেন না যে কাকে সেখানে কবর দেয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেয়া একটি কবর।
সেখানে মাটি খুঁড়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী