বাগমারা উপজেলায় শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীর যৌনহয়রানির অভিযোগ
রাজশাহীরবহুলপ্রচলিত অনলাইন প্রত্রিকা পদ্মাটাইমস এর প্রকাশিত একটি সংবাদের বরাত দিয়ে জানাযাই যে,
রাজশাহীর বাগমারায় এক স্কুল ছাত্রীকে শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানীর ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বাঁইগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
এমন অরুচিপূর্ণ ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রী অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রী যৌন হয়রানীর বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন স্বীকার করলেও, এড়িয়ে যান হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁইগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশীদ কর্তৃক একই বিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্রী (১৫) যৌন হয়রানীর শিকার হন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন এবং শিক্ষক আব্দুর রশীদের কু-কর্মের বিচার দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
ছাত্রী যৌন হয়রানী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি জানতে পেরে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথ ঘটনারস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষক আব্দুর রশীদ, প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও যৌন হয়রানী শিকার ছাত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন,তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথের সাথে যোগসাজসে শিক্ষক আব্দুর রশীদকে বাঁচানোর জন্য ফন্দি করেন।
ভুক্তভুগী পরিবারের সদস্যদের ও এলাকারসাধারণ জনগনের ভাষ্যমতে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথ যৌন হয়রানীর শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। বাড়াবাড়ি করলে ছাত্রীর পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো ভয় দেখিয়ে যৌন হয়রানীর বিষয়টি অস্বীকার করতে ওই ছাত্রীকে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ঘটনা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক আব্দুর রশীদই শুধু যৌন হয়রানী করেনা। যৌন হয়রানীর সাথে একাধিক শিক্ষক জড়িত রয়েছে বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, যৌন হয়রানীর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পুলিশ প্রচুর পরিমান নিয়েছেন। যার কারনে সত্য ঘটনাটি এখন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রশীদ জানান, তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন পত্রিকায় না লেখার জন্য বার বার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হীরেন্দ্রনাথ জানান, সেখানে কোন যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটেনি। অভিযুক্ত শিক্ষকসহ তাদেরকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কেন নেয়া হয়েছিল, এমন প্রশ্নের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। তবে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Comments
Post a Comment