ধারণার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বিএনপি নেতাদের



বিএনপির নেতা কর্মীদের ধারণা ছিলো রাজপথে তারা বাঁধার মুখে পড়বেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি হয়ত করতে দেয়া হবে না।

কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ কিংবা সরকারী দলের নেতাকর্মীদের কোন বাঁধার মুখে পড়তেই হয়নি তাদের।

বিগত সময়ে রাজপথে সমাবেশের ক্ষেত্রে নানান বাধা, শর্তের বেড়াজালে ছিল বিএনপি। কোথাও জনসমাগম করতে গেলেই বার বার পুলিশী বাধায় পড়তে হয়েছিলো দলটিকে। যে কারণে সবার মনে এক ধরণের শঙ্কা ছিল।

সোমবার বেলা ১২টা থেকে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়া পল্টনে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পল্টন এলাকায় বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয়। এ সময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয় নয়াপল্টন ও তার আশপাশের এলাকা।

ঢাকায় উন্মুক্ত পরিবেশে র‌্যালির সুযোগ পাওয়ায় এতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীরা ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে আসছিলেন, প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে বিএনপি তাদের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিএনপি নেতাদেরও দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকার তাদের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে বাঁধা দিচ্ছে। পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে।

তবে আজকের র‌্যালিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারায় দলটি অন্ধকারেও আলোর কিরণ পাওয়ার মতো মনে করছেন।

সোমবার দুপুর থেকে পল্টন এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মৎসজীবি দল, তাঁতী দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, জাসাস মুক্তিযোদ্ধা দলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ডপার্টি, ট্রাক, পিকাপ ভ্যানে করে জড়ো হয়েছেন। আরামবাগ মোড়, পল্টন থানার সামনে, নাইটেঙ্গেল মোড়, কারাইল মোড়ে পুলিশ সকর্ত অবস্থানে ছিল। নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে পুলিশকে সহযোগীতা করতে দেখা গেছে।

র‌্যালিতে থাকা মোহাম্মদপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাকিবুল হোসাইন বলেন, সরকারি দল ও পুলিশী বাধায় আমরা রাজপথে নামতেই পারছিলাম না। আজ কোনো বাধা নেই, তাই নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারছি। আশা করব ভবিষ্যতে আমরা রাজপথে আন্দোলন করতে বাধার সম্মুখীন হব না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু রাইজিংবিডিকে বলেন, আগে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে দেওয়া হতো না। হয়রানি করা হতো। এখন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এবার পু্লিশী বাধা বা হয়রানি হয়নি বলা চলে। ভবিষ্যতে এ অবস্থার আরো পরিবর্তন ঘটবে।



Comments

Popular posts from this blog

এই সেইপ্রদীপসাহা

জামিন না পেয়ে কারাগারে পরীমণি

এ যে জীবন নামের মরন পুরী