৭১ এর সেই আগুনের ফুলকির, জন্মেছিলো ২০ সালে
বাঙালি জাতির স্বাধীনতার মাস, ডিসেম্বর মাস। স্বাধীনতার মাসের শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি আবারও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি,এ জাতির সেইসকল বীর সন্তানদের, যারা এ জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন, মুখে দিয়ে গেছে স্বাধীন ভাষা মাতৃভাষা বাংলা ভাষা এবং আমি স্বরন করছি, সম্ভ্রম হারানো সেই লাখো লাখো মা-বোনদের কে এবং শেষ সাথে স্মরণ করছি এই বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। যার জন্ম হয়েছিল সেই টংগীপাড়ায় 1920 সালের 17 মার্চ এক আগুন এর ফুলকি হিসেবে। যে ফুলকির বিস্ফোরণ ঘটেছিল সেই ১৯৭১ সালে, এই জাতিকে সকল প্রকার পৈশাচিক অত্যাচার, নির্যাতন, শোষন,অবিচার এবং বৈষম্যতার খড়গো থেকে মুক্তির জন্য জীবন যৌবন রাজপথ কারাগারে কাটিয়ে গেছেন সেই বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে সারা বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে। তাই আমি আজকে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ডিসেম্বরের বিজয়কে স্বরন করে বলতে চাই,হে পিতা তুমি অমলিন, তোমার কোন ক্ষয় নেই, তোমার কোন মৃত্যু নেই। তুমি থাকবে লাখো কোটি বাঙালীর হৃদয়ের গহীনে।বাঙালির মুখে উচ্চারিত প্রতিটি বাংলা শব্দের উচ্চারনের ধ্বনি হয়ে । তুমি থাকবে কবির কবিতার প্রতিটা ছন্দে ছন্দে,শিল্পীর রং তুলির খেলায় ফুটে ওঠা সেই জীবন্ত ক্যানভাসে।তুমি অমলিন অক্ষয় হয়ে থাকবে স্থপতির ভাস্কর্যের মাঝে, ভাওয়ালী গানের টানে পালতোলা মাঝির বয়ে যাওয়া নৌকার ভাটিয়ালি গানের টানা সেই সুরের মাঝে । তুমি থাকবে কুমারের হাতে তোমারই মুক্ত মাটির স্পর্শে ও নৈপুণ্যে। তুমি থাকবে শিল্পীর কন্ঠে, রূপসী বাংলার রুপে,সবুজে ঘেরা এ বাংলার প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তুমি থাকবে লাল সবুজের ছায়া হয়ে, প্রতিটি বাঙালীর মাথার ছাতা হয়ে। তোমার ছায়াই জায়গা নিতে ছুটে এসেছে আজ আমারই মতো এ বাংলার লাখো কোটি তরুণ। এই বাংলার তরুণ প্রজন্ম তোমার সেই অমর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে শিখেছে প্রতিবাদের ভাষা, শিখেছে অধিকার আদায়ের ভাষা,শিখেছে দেশকে ভালোবাসার ভাষা, শিখেছে ন্যায় নীতি আদর্শের সাথে নিজেকে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার ভাষা। তাই তুমি জায়গা করে নিয়েছো, এই তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ের গহীনে।আমরা আজ জেনেছি এবং বুঝেছি তোমায়, তাই আজ পড়তে শিখেছি পতাকার মাঝখানের সেই লাল বৃত্তটাকেও। পতাকার মাঝখানে সেই লাল বৃত্তটাকে কে আমরা আজ সেই 15 আগস্টের বর্বরতা এবং 71,৫২ এ বাঙালির তাজা রক্তের অবয়ভই মনে করি। আমরা জেনেছি আজ, তুমি এই বাংলারই আরেক নাম, তুমি শেখ মুজিবুর রহমান।
তোমার ক্ষয় নেই পিতা তোমার তুমি পরম করুনাময় মহান রব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীর তুমি উত্তরাধিকারী। তুমি নতুন প্রজন্মের একমাত্র ভ্যানগার্ড,পথের দিশারী,জীবন সংগ্রামের অদৃশ্য প্রেরণা।
যতদিন পৃথিবীর মাঝে সূর্য থাকবে যতদিন ঘোলাপানিতে সিক্ত থাকবে সাগর-মহাসাগর নীলগগনে যতদিন তারাগুলো মিটমিট ইয়ে চলবে যতদিন থাকবে রাতের আধারে যতদিন আকাশে প্রাণে মেঘকুন্ডলীর ঘুরপাক ও হুক্কার থাকবে। জেনে রেখো হে মুজিব, তুমি ততদিন থাকবে বাঙালি হৃদয় জুড়ে। তুমি ঘুমাও স্বর্গে শান্তিতে। বাঙালির লাখো-কোটি তরুণ প্রাণ আজ জেগে আছে রাজপথে, তোমার বাংলাকে পাহারা দিতে। ৭১ এর ঘাতক দালাল আর তোমার বুকে গুলি চালানো সেই নরপিশাচদের শেকড়সহ উপড়ে ফেলার শপথ নিয়েছে আজ তোমার বাংলার লাখো-কোটি তরুণ। কোন অপশক্তি, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদীতার স্থান হবে না তোমার এই বাংলায়।আর আমাদের নেতৃত্বে আছে তোমারই সেই নীলকন্ঠী, বাঘিনী কন্যা তোমার আদরের হাসু।আমাদের স্বপ্ন দেখানোর একমাত্র প্রাণ, অসহায় গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের তোমারই মতো আজ শেষ অস্রয়স্থলে পরিনিত হয়েছে আমাদের প্রিয় নেত্রী, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। জানো পিতা, তোমার সেই রেখে যাওয়া ভাঙ্গাচোরা অসহায় গরীব দেশটিকেই আজ প্রতিষ্ঠিত করেছে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে। তোমার হাসু সারা বিশ্বের কাছে অনেক প্রিয় এবং তোমারই মত আদরের মধ্যমনিতে পরিনত হয়েছে। আদর্শ, উদারতা আর মানবতায় তোমার হাসু হয়েছে আজ বিশ্বের কাছে মাদার অফ হিউম্যানিটি। নিশ্চয়ই স্বর্গে বসে অনেক বেশি দোয়া করছো, তোমার অভাগা এই দেশটির জন্য এবং তোমার আদরের হাসুর জন্য, যে কি এই বাংলাকে তোমার স্বপ্নের সেই সোনার বাংলায় পরিনত করতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাই একটি বাক্যই শুনি বেশি বেশি, যতদিন আছে মুজিবের রক্তের হাতে দেশ, ততদিন পথ হারাবেনা বাংলাদেশ।

Comments
Post a Comment