প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতি না, সহমর্মিতা থাকা উচিত।
তাদের প্রতি সহানুভূতি না, সহমর্মিতা থাকা উচিত।
আমরা সবাই মিলেই এ দেশে একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গড়ে তুলব। সবাই বিষয়টি হৃদয় থেকে অনুধাবন করলে সমস্যার সমাধান অবশ্যই সম্ভব।করুণা নয়, প্রতিবন্ধীরা চায় অধিকার বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র গুলোর মতো, বাংলাদেশেরও একটা বিশাল অংকের জনগোষ্ঠীর প্রতিবন্ধী। গবেষণায় জানা যায় যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় 10 থেকে 11 শতাংশ লোক বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সাথে জরিত বা প্রতিবন্ধী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।জরিপ বলছে দেশে এক কোটি ৩০ লাখ প্রতিবন্ধী আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছে মাত্র ১৭ লাখ। প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও তাদের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।বর্তমানের বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ার পথে যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে রাষ্ট্র এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। তাদের সম্পর্কে ধারণা ও নীতিগত ক্ষেত্রে আজ অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে পরিবর্তিত ধারণা ও নীতির সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তাদের নানারকম প্রতিবন্ধকতা এখনও বিদ্যমান। যার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারনে কিন্তু মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের নাগরিক হিসেবে, তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়,বর্তমান সরকার অনেক নীতি নিয়েছে। মাঠপর্যায়ে সেসব পৌঁছানো। মূল থেকেই তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের প্রত্যাশার আলোকেই তাদের জাতীয় কর্মযজ্ঞে যুক্ত করতে হবে। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা বা মিডিয়া এক্ষেত্রে আলাদা কিছু নয়।প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা সময় দিতে পারেন না। ইউনিয়ন তো দূরের কথা, উপজেলা পর্যায়েই আমরা সক্রিয় হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো তৎপর নয়। কমিটিগুলো এখনও একটি সভাও করতে পারেনি। এখনও অনেক প্রতিবন্ধী হিসাবের বাইরে রয়েছেন। একটা অংশ সুবর্ণ কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু অনেকেই পাননি। অনেকেই এখনও ভাতার আওতায় আসেননি। এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাজেটে সীমাবদ্ধতা থাকায় দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সব সংগঠনকে বরাদ্দের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। যারা সত্যিকার অর্থে প্রতিবন্ধীদের অধিকারের কথা বলে, বিভিন্ন সংগঠনকে নেতৃত্ব দেয়, তাদের অগ্রাধিকার দিতে হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে হামিম হাসান বলেন, অনেকের টাকা এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি। তবু সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে আন্তরিক।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম অফিসার নুসরাত আইরীন। তিনি বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ৭ ভাগ। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৯৪ ভাগ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। সর্বশেষ সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১৭ লাখ ৯ হাজার ৫৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে এবং এটি চলমান আছে। দেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির সংখ্যা যাই হোক না কেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করে তাদের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে শেখ হাসিনা সরকার বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন এবং তা বাস্তবায়ন করার প্রতি যথেষ্ঠ ভাবে চেষ্ঠা করে যাচ্ছে।এদেশের প্রতিবন্ধী সমাজ সহ আপামর জনতা তাই শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ায়ু কামনায় মোনাজাত মাঙ্গে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি অবশ্যই আরও ব্যাপক ভাবে সহযোগিতা করতে হবে এডিডি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থাকেও। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের স্ব-সহায়ক দল (সেল্কম্ফ-হেল্প গ্রুপ) ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ডিপিও) গঠনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলে উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এ ক্ষেত্রে আমাদের বাগমারা উপজেলার একমাত্র প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সাহার মেমোরিয়াল ডিসঅ্যাবল স্কুল এ্যন্ড কেয়ার সেন্টার এর মূল লক্ষ্য

Comments
Post a Comment