পদত্যাগ করছেন ভিপি নুর?
কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ যাকে ডাকসু নামে আমরা জানি। ডাকসু থেকে যুগে যুগে বহু সৎ এবংনির্ভিক ছাত্র নেতার জ।। কিন্তু দীর্ঘসময় এই ডাকসুর নির্বাচন বন্ধ থাকায় ছাত্র সমাজের অধিকার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিরাজমান বিভিন্ন ছাত্রনেতার অরাজকতা ও অপরাজনৈতিক দৌরাত্বের কারনে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে মুক্তি পেতে ডাকসুর নির্বাচন অপরিহার্য ভেবে নতুন করে ডাকসুরনির্বাচন হয়। উক্ত নির্বাচনেে ২৫ টি পদের বিপরীতে অনেক ছাত্রনেতারা নির্বাচনেে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত নির্বাচনেে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হোন কোঠা সংস্করণ আন্দোলনের নেতা নুরুলহক নুরু। কিন্তু গত কয়দিন আগে (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের একটি ফোন আলাপে অবৈধ অর্থ লেন- দেনের বিষয়টি ভাইরাল হলে তার পদত্যাগ চায় ডাকসুতে নির্বাচিত ছাত্রলীগের ২৩ নেতা। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী ও এজিএস সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রাব্বানী বলেন , ‘নুরুল হক নুরের নৈতিক স্খলন হয়েছে । সেজন্য তার ডাকসু থেকে পদত্যাগ করা উচিত। ডাকসুতে নির্বাচিত ২৫ জনের ২৩ জন তার পদত্যাগ দাবি করছে।’
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকিবুল হাসান রাকিব। এতে বলা হয়, ডাকসুতে ২৫টি পদের মধ্যে ছাত্রলীগ থেকে মনোনীত ২৩ জন বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মাফিক যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কখনোই কোনো আকাশকুসুম কল্পনায় শিক্ষার্থীদের ভাসিয়ে দেইনি।
advertisement
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ২৩ জন ছাত্র প্রতিনিধির একক ও যৌথ উদ্যোগে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনমান ও পড়াশুনার পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সুবিধা ও সুযোগগ প্রাপ্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছি। তখন ডাকসুর ভিপি পদটি ব্যবহার করে নুরুল হক নুরের টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের খবর আমাদের লজ্জিত করে।’
রাকিবুল হাসান আরও বলেন, ‘লজ্জিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে, লজ্জিত করে শত বছরের দ্বারপ্রান্তে পৌছানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবান্বিত ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক। শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে নুর আজ ডাকসুর ভিপি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে অবস্থান করছে। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছে, নুর একদিকে তার কিছুই পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, অপমান করেছে, জাতির সামনে শিক্ষার্থীদের লজ্জিত করেছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যানার্থে নুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এর এক পয়সাও এ ৯ মাসে ব্যয় না করে নুর শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করেছে, নিজের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। বিগত ৯ মাসে ডাকসু ভিপির উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কাজও সম্পন্ন না হলেও ভিপি পদকে ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের কাজ করেছেন পুরোদমে।’
এতে বলা হয়, ‘নিজেকে জাতীয় বীর হিসেবে হাজির করতে গিয়ে তিনি আজ জাতীয় বেঈমানে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রি অফিসে একাধিক টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ ও বদলি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কথা না বলে, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।’
আরো বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায্য উন্নয়ন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ না করে, বনানী অগ্নিকাণ্ডে সেলফি তুলতে গিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদে না গিয়ে, দৌড়ে বেরিয়েছেন বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের অভিজাত নাইট পার্টিতে। শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম স্বস্তি-প্রশান্তির উদ্যোগ না নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন টক শোতে চটকদারী বক্তব্য দিয়ে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলাকে ‘মাত্র দুই কোটি টাকার বিষয় বলে, নিজের সম্পর্কে বলেছেন, ডাকসু ভিপির জন্য মাত্র ১৩ কোটি টাকা কোনো বিষয় নয়। এ সময় ভিপি পদ ব্যবহার করে নুরুল হক নুর কীভাবে জিরো থেকে হিরো হলেন তা অনুসন্ধান করে ছাত্রসমাজের সামনে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তারা।
ডাকসু নেতারা বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য ভিপি নুর কি কাজ করেছে, নিজের প্রকাশিত ইশতেহারের কতটা কি বাস্তবায়ন করেছে তা জানার ও সবাইকে জানাতে হবে। সম্প্রতি দুইটি টেলিফোন ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে নুরের স্বরূপ সকলের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবার অভিনয় করতে করতে নুর যে টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, অনৈতিক লেনদেন ইত্যাদিতেও দক্ষতা অর্জন করেছে তা ছাত্রসমাজের সামনে পরিষ্কার হয়েছে।
‘এই ফোনালাপ প্রকাশিত হওয়ার পর নুরের বিভিন্ন বক্তব্য, বিজ্ঞপ্তি, মন্তব্য আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। সেখানে তিনি যেভাবে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তা ছাত্র সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। আলোচিত সেই আন্টির ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পুরো বিবরণ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হোক। যে পরিচিত ভাইয়ের সাথে কথোপকথন তার পরিচয় প্রকাশ করা হোক।’
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্য প্রবাসী যার সাথে কথোপকথন ফাঁস হয়েছে, তার পরিচয় প্রকাশ করা হোক। আমরা এও জানতে চাই যে, কি এমন কথা, লেনদেন, সম্পর্ক তাদের মধ্যে বিদ্যমান যা হোয়াটস অ্যাপে বলতে হবে? অভিযোগ যেহেতু নুরের দিকে, তাই নুরকেই এসব প্রকাশ করতে হবে।’

Comments
Post a Comment